স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ক্ষয়ক্ষতি ‘শত কোটির কাছাকাছি’, তদন্তে কমিটি
মেডিভয়েস রিপোর্ট: দুর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২৩টি গাড়ি। এ ছাড়া আরও ২৮টি গাড়িতে চালানো হয়েছে ভাঙচুর। গত শুক্রবার (১৯ জুলাই) কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় এই ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় শত কোটি টাকার কাছাকাছি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের।
গতকাল বুধবার (২৪ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তবে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপনে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে গেছে। ক্ষতি নিরূপণে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এই ক্ষতির পরিমাণ শত কোটির কাছাকাছি হবে।
ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, স্বাস্থ্য খাতের ওপরে এটি একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ‘এমআইএস’ অর্থাৎ যেখানে সারা দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা কন্ট্রোল করা হয়, সেখানেও আগুন দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাশাপাশি দুর্বৃত্তরা মহাখালীর ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতালেও হামলা চালিয়েছে। এ সব ঘটনায় যারা দোষী, তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মহাখালী কাঁচা বাজারের পাশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পুরনো ভবন, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্স (বিসিপিএস) ভবন, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি ভবন, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর (আইপিএইচ), জাতীয় পুষ্টি কর্মসূচির কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে।
এর মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পুরনো ভবনের সামনে পার্কিংয়ে রাখা ২৩টি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। ভাঙা হয়েছে ভবনের প্রধান ফটক ও ভবনের গ্লাস। ভাঙচুর করা হয় বিভিন্ন অফিসের ২৮টি গাড়ি।
এদিকে মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) হামলার ঘটনায় সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পরদিন গতকাল বুধবার (২৪ জুলাই) সকালে তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এর আগে ক্ষয়ক্ষতি দেখতে রোববার (২১ জুলাই) নিজেই ঘটনাস্থলে যান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন।
জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস বিভাগের সার্ভার থাকার কারণে ২৪ ঘণ্টা কোন না কোন কর্মচারী দায়িত্ব পালন করেন। গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর কিছু কর্মচারী বন্ধের দিনও দায়িত্বরত ছিলেন।
তারা জানিয়েছেন, হঠাৎ পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা শুরু হলে কয়েকশ আন্দোলনকারী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গেটের কাছে ছুটে আসে। এখানে আওয়ামী লীগের কর্মী আছে বলে তারা চিৎকার করতে থাকে। গেট বন্ধ থাকলেও সবাই মিলে ধাক্কা দিয়ে গেট ভেঙে প্রবেশ করে একাধারে গাড়ি ভাঙচুর শুরু করে।
তারা আরও জানান, এক পর্যায়ে কয়েকজন দুর্বৃত্ত গান পাউডার ব্যবহার করে গাড়িগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ২৩টি গাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। দুর্বৃত্তদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষও।
এনএআর/
-
১৬ জুলাই, ২০২৪